রাজধানীতে আলোচিত কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, একটি সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
সোমবার কারওয়ান বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র হিসেবে কাজ করছিলেন। তারা চালক ও যাত্রীর ছদ্মবেশে বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাফেরা করে সুযোগ বুঝে যাত্রীদের টার্গেট করত।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, চক্রটি মূলত দূরপাল্লার যাত্রীদের বেছে নিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তোলে। এরপর নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়। বাধা পেলে শারীরিক আক্রমণ করতেও দ্বিধা করত না তারা। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কাছ থেকে একটি সিএনজি অটোরিকশা ও ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। র্যাব জানায়, সম্প্রতি কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, বুলেট বৈরাগী চট্টগ্রাম থেকে প্রশিক্ষণ শেষে নিজ কর্মস্থল কুমিল্লায় ফিরছিলেন। গভীর রাতে তিনি নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালে চক্রের সদস্যরা তাকে অটোরিকশায় তুলে নেয়। পথে তারা তাকে আঘাত করে এবং তার কাছ থেকে ব্যক্তিগত সামগ্রী ছিনিয়ে নেয়।
একপর্যায়ে চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দিলে গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।পরদিন সকালে মহাসড়কের পাশে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।